রাজধানীতে ঈদুল আজহার পশু কোরবানির পর তা গরিব ও অসহায়দের মাঝে বিলি-বিতরণ শেষ হয়েছে। আর এদিন বিকেল থেকেই নগরীর মোড়ে মোড়ে জমে উঠেছে কোরবানির মাংস বিক্রির অস্থায়ী বাজার।
সরেজমিনে রাজধানীর, মিরপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, রায়ের বাজার, মোহাম্মদপুর, মহাখালি রেলগেট, আজিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় এই চিত্র।
ঈদের দিনের এই ভ্রাম্যমাণ মাংসের হাটে নিম্ন আয়ের মানুষরাই সাধারণত প্রধান ক্রেতা। বেশি দামে মাংস কিনলেও সন্তুষ্টি দেখা গেছে তাদের চোখে-মুখে।
সরেজমিন দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ মাংসের হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার বেশ ভিড় রয়েছে। জমজমাট হাটের বেচাকেনাও। ট্যানারীমোড়ের কাছে মাংস কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, আমি কোরবানি দিতে পারিনি তাই কম দামে মাংস কিনতে এসেছি। এখানে তো ৫০০ টাকায় কেজি কিনলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মাংসটা ভালো দেখলাম তাই একটু বেশি দামে কিনেছি। এছাড়া এমনি দোকানে তো ৫৫০ টাকা বিক্রি করে। সেই হিসেবে তো কিছুটা কম পেয়েছি।
মূলত সকাল থেকে ভিক্ষুক এবং গরিব-অসহায় মানুষেরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে যে মাংস সংগ্রহ করেছেন সেটাই তারা এসব স্থানে বিক্রি করছেন। তবে এবার করোনার কারণে তাদের মাংস সংগ্রহে অনেকটাই ভাটা পড়েছে বলে জানা গেল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মাংস বিক্রেতা বললেন, ‘আগে যেখানে প্রায় সব বাড়ি থেকেই চাইলে মাংস পাওয়া যেত এবার ১০ বাড়ি ঘুরলে তিন বাড়ি থেকে মাংস পাওয়া যাচ্ছে। করোনার কারণে অনেকেই কোরবানি দেয়নি। আবার কোনো এলাকায় ঢুকতেও বাধা দেওয়া হয়েছে।’
জানা গেছে, নিম্নআয়ের এসব মানুষের নিজেদের মাংস সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই খাওয়ার জন্য কিছু মাংস তারা রাখে। বাকিটা বিক্রি করে টাকা পাওয়ার আশায় চলে যান গরিবের অস্থায়ী মাংসের হাটে।
নিম্নবিত্ত বা যাদের কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই, তারাই এসব মাংসের ক্রেতা। আবার জানা গেছে, বিক্রি করা এসব মাংস রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত রেস্টুরেন্টেও যায়।
এদিকে কেজি ও ভাগা হিসাবে এসব মাংস বিক্রি হচ্ছে, যা প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৬০০ পর্যন্ত করে বিক্রি হচ্ছে এবং ভাগা ব্যাগ ধরে ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্তও বিক্রি হচ্ছে। শুধু মাংস নয় এসব বাজারে বিক্রি হচ্ছে ভূড়ি, পা, আস্ত মাথা বা মাথার মাংসও। এসবের দাম আবার ভিন্ন ভিন্ন।


